৬ পরিবর্তন নিয়ে ৬ গোলে হার মেয়েদের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০-০ গোলে হারের পর এবার দক্ষিন কোরিয়ার বিপক্ষে ৬-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল। এই ম্যাচের আগে দলে ছয়টি পরিবর্তন করা হয়েছিল, তাতেও বড় পরাজয় রোখা সম্ভব হয়নি। প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে বড় হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশের সামনে। একাদশে ছয়জন সিনিয়র ফুটবলারকে ফিরিয়ে এনে রক্ষণাত্মক কৌশলে দল সাজিয়েছিলেন কোচ পিটার বাটলার। কিন্তু ফিফা র্যাংকিংয়ে ৯৪ ধাপ এগিয়ে থাকা শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিরোধই কাজে আসেনি। গোলরক্ষক রুপনা চাকমার দারুণ কিছু সেভের পরও ৬-০ গোলের বিশাল হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। শক্তির বিচারে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই অতি-রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। তবে সেই রক্ষণ ভাঙতে খুব বেশি সময় নেয়নি কোরিয়ানরা। ম্যাচের ১৬ মিনিটেই কিম মিন-জির গোলে লিড নেয় তারা। পিছিয়ে পড়েও রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয় বাংলাদেশকে। ৩৩ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে কোরিয়ার নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন রুপনা চাকমা ও দলের জয়েকজন ডিফেন্ডার।
দুই মিনিট পর চু হাইজুর দূরপাল্লার বুলেট শটও দারুণ দক্ষতায় ফিস্ট করে ফেরান বাংলাদেশের অতন্দ্র প্রহরী রুপনা। তবে ৪২ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে জং দা-বিন ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ২-০ স্কোরে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির ঠিক আগে দা-বিনের আরও একটি হেড দারুণভাবে গ্লাভসবন্দি করেন রুপনা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। মনিকা ও ঋতুপর্ণাদের পাসিং ফুটবলে খেলায় কিছুটা গতি ফেরে। ৫৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা আনিকা সিদ্দিকী বাঁ প্রান্ত দিয়ে দারুণভাবে বক্সে ঢুকে পড়লেও শট নিতে দেরি করায় কোরিয়ান গোলরক্ষক তা আটকে দেন। দুই মিনিট পর ম্যাচের সবচেয়ে সেরা সুযোগটি পায় বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে আনিকাকে চমৎকার থ্রু পাস বাড়ান শামসুন্নাহার জুনিয়র। আনিকার টপ কর্নারে নেওয়া দুর্দান্ত শটটি অবিশ্বাস্যভাবে কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক। পরপর দুটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ।
উল্টো ৬৫ থেকে ৭৯ এই ১৪ মিনিটের ঝড়ে তছনছ হয়ে যায় বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ৬৫ মিনিটে জি সুউনের রক্ষণচেরা পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন বদলি নামা চোয়ি ইউরি। ৭৩ মিনিটে বক্সের বাইরে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন রুপনা। তবে বিপজ্জনক সেই ফ্রি-কিক তিনি নিজেই রুখে দেন। কিন্তু ৭৭ মিনিটে হিউন সুলগির উঁচু ক্রসে লাফিয়ে উঠে বল জালে জড়ান জি সুউন। দুই মিনিট পর নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে স্কোরলাইন ৫-০ করেন চোয়েরি ইউরি। আর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কো ইউ-জিনের গোলে হাফ ডজন গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ কোরিয়া। এর আগে সমালোচনার মুখে ‘ভুল’ শুধরালেন বাটলার, একাদশে ফেরানো হয়েছে ঋতুপর্ণা-রুপনাদের। এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর একাদশ নির্বাচন নিয়ে তোপের মুখে পড়েছিলেন হেড কোচ পিটার বাটলার। তবে সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করেননি এই ব্রিটিশ কোচ। তীব্র সমালোচনার মুখে একাদশে ব্যাপক রদবদল এনেছেন তিনি। ফিরিয়ে এনেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, রুপনা চাকমাদের মতো ছয়জন সিনিয়র ও পরীক্ষিত খেলোয়াড়কে।
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে শুরুর একাদশে ঋতুপর্ণা, মনিকা কিংবা শিউলি আজিমদের মতো অভিজ্ঞদের বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন বাটলার, যা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে তুমুল চর্চা হয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে সরে এসেছেন তিনি। এই তিন অভিজ্ঞ ফুটবলারের পাশাপাশি একাদশে ফিরেছেন রক্ষণ ও আক্রমণভাগের দুই গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র শামসুন্নাহার ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। সিনিয়রদের জায়গা ছেড়ে দিতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শুরুর একাদশ থেকে ছিটকে গেছেন আগের ম্যাচে সুযোগ পাওয়া পাঁচ তরুণ খেলোয়াড় আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, মোসাম্মত সুলতানা, মোসাম্মৎ আইরিন খাতুন, মোসাম্মৎ সুরভী আরফিন আক্তার এবং অর্পিতা বিশ্বাস। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে গোলপোস্টের নিচে। আগের ম্যাচে মিলি আক্তারকে খেলানো হলেও তার জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন আস্থার প্রতীক ও দুইবারের সাফজয়ী গোলরক্ষক রুপনা চাকমা। বড় হারের ধাক্কা সামলে ওঠার লড়াইয়ে তাই অভিজ্ঞদের ওপরই পূর্ণ ভরসা রেখেছিলেন কোচ।