সরকারি প্রকল্পে ওভারল্যাপিং বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর যাচাইয়ের পরামর্শ

অনলাইন ডেস্ক
০১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন

জাতীয়

সরকারি প্রকল্পে ওভারল্যাপিং বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর যাচাইয়ের পরামর্শ ছবি-সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি বা ওভারল্যাপিং বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। নতুন প্রকল্প অনুমোদনের আগে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর সঙ্গে উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের মিল রয়েছে কি না, তা প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) ও দৈনিক যুগান্তর যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে।

নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে এআই দিয়ে যাচাই

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে একই উদ্দেশ্যে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার প্রকল্প চলমান আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি। নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রযুক্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সঙ্গে পুরোনো প্রকল্পের মিল শনাক্ত করা গেলে সরকারি অর্থ ব্যবহারে দক্ষতা বাড়বে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

তার মতে, সরকারি প্রকল্পে ডুপ্লিকেশন কমাতে পারলে এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া অদক্ষতার একটি বড় অংশ কমানো সম্ভব।

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে নীতিগত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব

শিল্পমন্ত্রী বলেন, এনএসডি মূলত একটি নিয়ন্ত্রক বিষয়, আর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি একটি নীতিগত বিষয়। তাই দুটি বিষয়কে একইভাবে দেখলে চলবে না।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে একই ধরনের কার্যক্রম থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে উল্লেখ করে তিনি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় উৎপাদনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো পণ্য প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদন করতে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য দেশ সেই জায়গা দখল করবে। তাই দেশীয় শিল্পকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই বাস্তবতায় শিল্প ও অর্থনীতির স্থায়িত্ব ধরে রাখতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

শুধু শিল্পকারখানা নয়, উৎপাদনশীলতা হতে হবে সংস্কৃতি

শিল্পমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতা মানে শুধু কারখানায় উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো নয়; এটি একটি সামগ্রিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে।

কম শ্রম ও সম্পদ ব্যবহার করে অধিক পরিমাণে এবং উন্নতমানের পণ্য ও সেবা উৎপাদন করাই উৎপাদনশীলতার মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন কাজেও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উদাহরণ দেন। তাঁর মতে, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত হলেও প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেলে সাধারণ শ্রমিকরাও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেন।

তবে দক্ষতার পাশাপাশি নেতৃত্ব, সঠিক পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্পের ঘাটতিকেও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

দক্ষ মানবসম্পদ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রয়োজন

দেশের শিল্প ও অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন শিল্পমন্ত্রী।

আলোচনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ. কে. এনামুল হক, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক, এনপিওর মহাপরিচালক মোহা. নায়েব আলীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।