ইরান যুদ্ধ নিয়ে পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে ক্ষুব্ধ সিনেটররা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান যুদ্ধ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দেওয়া রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান-দুই দলেরই সিনেটররা।
বৃহস্পতিবার সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির বৈঠকে পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কলবি আইনপ্রণেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন। বৈঠক শেষে কয়েকজন সিনেটর অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নেরই তিনি স্পষ্ট উত্তর দেননি।
রিপাবলিকান সিনেটর কেভিন ক্র্যামার বলেন, বৈঠকের শুরুতেই কলবি কোনো বক্তব্য না দিয়ে সরাসরি প্রশ্ন নেওয়া শুরু করেন। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল ‘খুবই অদ্ভুত’ এবং ‘অস্বাভাবিক’।
ক্র্যামার বলেন, বৈঠকে ‘উত্তরের চেয়ে প্রশ্নই ছিল বেশি’। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্ধারিত হালনাগাদ তথ্য দিতে এসে কলবির প্রস্তুত কোনো বক্তব্য না থাকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
আরেক রিপাবলিকান সিনেটর জোনি আর্নস্ট ব্রিফিং নিয়ে ‘খুবই হতাশ’ বলে জানান। তাঁর দাবি, কলবি স্পষ্ট কোনো উত্তর না দেওয়ায় তিনি প্রশ্ন করার জন্য বৈঠকে থাকেননি।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি বলেন, বৈঠকটি জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও ইরান যুদ্ধই সেখানে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া অন্য অনেক ব্রিফিংয়ের মতো এবারও বৈঠক শেষে আইনপ্রণেতাদের কাছে আগের চেয়ে ‘আরও বেশি প্রশ্ন’ রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাত মাসেও শেষ হয়নি ইরান যুদ্ধ
ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর তা এখন সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। সংঘাতের শেষ কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সময়সীমা নেই।
যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দ্রুত বিজয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে তিনি বলেন, ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই যুদ্ধ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত চলতে পারে। সংঘাতের কারণে জ্বালানির দামও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান নিয়ে তাঁর সামনে ‘একটি বড় সিদ্ধান্ত’ আসছে।
তিনি বলেন, ‘আমি কি তাদের (ইরানি সরকারকে) ঢুকে নিশ্চিহ্ন করতে চাই, নাকি চাই না-এটি একটি বড় সিদ্ধান্ত। আমার ক্ষেত্রে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।’
আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পারস্য উপসাগরীয় ছয়টি দেশের নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এক সিনেটর অবশ্য ভিন্নমত
তবে কলবির ব্রিফিং নিয়ে সব সিনেটর যে অসন্তুষ্ট, তা নয়। রিপাবলিকান সিনেটর জিম ব্যাংকস তাঁর উপস্থাপনাকে ‘খুব বিস্তারিত ও গঠনমূলক’ বলে মন্তব্য করেন।
ব্যাংকসের দাবি, কলবি কোনো প্রশ্ন এড়িয়ে যাননি এবং প্রতিটি প্রশ্নেরই যথেষ্ট তথ্যসহ উত্তর দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা যেকোনো শুনানিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার এবং কমিটির ডেমোক্র্যাট নেতা জ্যাক রিড ব্রিফিং শেষে কোনো মন্তব্য করেননি।
ইরান যুদ্ধের খরচ নিয়ে কংগ্রেসের চাপ
কলবির ব্রিফিংয়ের দিনই সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক কনফারেন্সের প্রায় সব সদস্য ইরান যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। পেনসিলভানিয়ার সিনেটর জন ফেটারম্যান এতে স্বাক্ষর করেননি। স্বাধীন দুই সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও অ্যাঙ্গাস কিংও চিঠিতে ছিলেন।
মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিসা স্লটকিনের নেতৃত্বে পাঠানো চিঠিতে চলতি মাসের শেষ নাগাদ ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট কত অর্থ ব্যয় হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত অর্থ চাওয়ার প্রস্তাব কীভাবে ব্যয় করা হবে এবং ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর আওতায় অবশিষ্ট প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার কীভাবে বরাদ্দ করা হবে-তার বিস্তারিত হিসাব চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আইনপ্রণেতারা বলেন, প্রশাসন অতিরিক্ত কয়েক হাজার কোটি ডলার চাইলেও এখন পর্যন্ত ওই অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে বা হবে, সে বিষয়ে মৌলিক তথ্যও দেওয়া হয়নি। কংগ্রেসের তদারকি কার্যক্রম চালাতে এসব তথ্য প্রয়োজন বলেও তারা উল্লেখ করেন।
পেন্টাগন গত মাসে কংগ্রেসকে জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪২ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়ে গেছে। এর আগে প্রতিরক্ষা দপ্তর যে হিসাব প্রকাশ করেছিল, তার তুলনায় এটি ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বেশি।
এদিকে নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
সূত্র: দ্য হিল