ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আগুন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ জানান, রাজধানী মস্কোর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ইয়ারোস্লাভল শহরের স্লাভনেফত-ইয়ানোস তেল শোধনাগারে রাতভর ড্রোন হামলার পর আগুনের সূত্রপাত হয়।
গভর্নর জানান, শোধনাগারটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হামলায় কেউ হতাহত হননি। বৃহস্পতিবার সকালেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্লাভনেফত-ইয়ানোস শোধনাগারটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি রসনেফত ও গাজপ্রমের যৌথ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বছরে প্রায় ১৫ কোটি মেট্রিক টন নয়, বরং ১ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন; অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এর আগে একাধিকবার শোধনাগারটিতে হামলার দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, এই স্থাপনা রুশ সামরিক বাহিনীর জন্য জ্বালানি ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহ করে।
রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় হামলা
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্লাভনেফত-ইয়ানোস শোধনাগারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে পৃথক হামলায় তিনটি পরিবহন বিমান ও তিনটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানান, রাতভর ব্যাপক আকাশ হামলার কারণে আঞ্চলিক রাজধানী রোস্তভ-অন-দনের চারটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এসব এলাকায় শহরের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন। হামলায় কেউ আহত হননি বলে তিনি জানান।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়া ও অধিকৃত ক্রিমিয়ায় ৬৪১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার পার্লামেন্ট ও আঞ্চলিক নির্বাচন পরিচালনাকারী কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অধিকৃত ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে মঙ্গলবার একটি ড্রোন হামলায় কমিশনের এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
কিয়েভেও রুশ হামলা
একই রাতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় ধরনের রুশ হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। দেশের অন্যান্য এলাকাতেও পৃথক রুশ হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগরে তানজানিয়ার পতাকাবাহী একটি বেসামরিক জাহাজে রুশ ড্রোন হামলায় জাহাজটির ক্যাপ্টেন নিহত হয়েছেন। নিহত ক্যাপ্টেনের জাতীয়তা জানানো হয়নি।
হামলা বন্ধে ট্রাম্পের উদ্যোগের পরও সংঘাত
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের সর্বশেষ হামলাগুলো এমন সময়ে হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে দাবি করেছিলেন, মস্কো ও কিয়েভ এ ধরনের হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের হামলার পাশাপাশি রুশ বাহিনীও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প ইউক্রেনের রুশ জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চালানো হামলাকে দায়ী করেছেন। ইউক্রেনের হামলা রাশিয়া ও আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের দামের ওপর চাপ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
তবে বিভিন্ন বিশ্লেষণের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রধান কারণ ইউক্রেনের হামলা নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ও দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেওয়া পদক্ষেপ এবং এর সঙ্গে যুক্ত অর্থনৈতিক সংঘাতই জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।