ভিসা না পেয়ে ভিডিওতে ভাষণ দেবেন আব্বাস

অনলাইন ডেস্ক
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক

ভিসা না পেয়ে ভিডিওতে ভাষণ দেবেন আব্বাস


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ার পরও আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভিডিওর মাধ্যমে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পেলেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো নিউইয়র্কে গিয়ে বিশ্বনেতাদের বার্ষিক সমাবেশে সরাসরি বক্তব্য দিতে পারছেন না তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ১৫২টি, বিপক্ষে তিনটি। চারটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, আব্বাস ছাড়াও ফিলিস্তিনের অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আগামী এক বছর জাতিসংঘের সভা ও সম্মেলনে ভিডিওর মাধ্যমে অংশ নিতে পারবেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ না পান।

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি আব্বাসসহ ফিলিস্তিনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। গত বছর আব্বাস এবং আরও প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনির ভিসা প্রত্যাখ্যান বা বাতিল করা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা এবং পশ্চিম তীরভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারাও।

ইসরায়েলের অভিযোগ
জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি দানন আব্বাসের ভিডিওর মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ‘সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন’ অব্যাহত রেখেছেন।

দাননের দাবি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের জন্য অর্থ দেওয়ার নীতি যতদিন চলবে, ততদিন আব্বাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে তা উপেক্ষা করার প্রত্যাশা করতে পারেন না। তিনি বলেন, নিউইয়র্কে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার বদলে আব্বাস ভিডিও পাঠাবেন; এই নীতি পরিবর্তনের দায়িত্ব তাঁর নিজের।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘবিষয়ক উপ-রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুসও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। সাধারণ পরিষদে ভোটের আগে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ যদি অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হতে চায়, তাহলে তাদের সন্ত্রাসবাদে অর্থ দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং কূটনৈতিক তৎপরতার বদলে কার্যকর শাসনে মনোযোগ দিতে হবে।

ফিলিস্তিনের প্রতিবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি রিয়াদ মনসুর সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক আদালত ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ফিলিস্তিনের এক কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন, আব্বাসের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিয়ে বিশেষ নিয়ম
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর অবস্থিত হওয়ায় সেখানে বিদেশি কূটনীতিকদের প্রবেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কিছু আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ১৯৪৭ সালের একটি চুক্তি অনুযায়ী, সাধারণভাবে জাতিসংঘের বৈঠকে অংশ নিতে বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, নিরাপত্তা, উগ্রবাদ এবং পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে তারা ভিসা প্রত্যাখ্যান বা বাতিল করতে পারে।

এর ফলে আব্বাসের সরাসরি উপস্থিতি ঠেকানোর মার্কিন সিদ্ধান্তের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ তাঁকে ভিডিওর মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী সপ্তাহের সাধারণ বিতর্কে তাই নিউইয়র্কে উপস্থিত না থেকেও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য শোনার সুযোগ পাবেন বিশ্বনেতারা।