মরিয়মের মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বললেন পিটিআই নেতা আসাদ কায়সার

অনলাইন ডেস্ক
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক

মরিয়মের মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বললেন পিটিআই নেতা আসাদ কায়সার ছবি-সংগৃহীত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের পরিবর্তে খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) থেকে সন্ত্রাসের হুমকি আসছে-পাঞ্জানের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের এমন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা আসাদ কায়সার। তিনি এই বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

রোববার সোয়াবিতে এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় আসাদ কায়সার বলেন, মরিয়ম নওয়াজের বাবা যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখনই কেপিকে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে মরিয়মের চাচা প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সরকারও আবার অঞ্চল ও প্রদেশটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, জেনারেল জিয়াউল হক এই অঞ্চলে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করেছিলেন এবং কালাশনিকভ সংস্কৃতির প্রচলন ঘটিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে এর ফলে কেপিজুড়ে সহিংসতা ও রক্তপাত বেড়ে যায়।

আসাদ কায়সার বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে কেপির মানুষ বিপুল ত্যাগ স্বীকার করলেও তাঁদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়ার বদলে কর্তৃপক্ষ তাঁদের অপমান করেছে। ভুল নীতির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যার সুযোগ নিয়ে আত্মঘাতী হামলাকারীদের উত্থান ঘটে। যুদ্ধের সেই পরিণতি এখনো কেপির মানুষকে বহন করতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

পিটিআইয়ের এই নেতা আরও দাবি করেন, ইমরান খানের তিন বছরের মেয়াদে কেপিতে একটি আত্মঘাতী হামলা বা ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেনি।

কেপিতে কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ সীমিত বলেও অভিযোগ করেন আসাদ কায়সার। তাঁর ভাষ্য, সামান্য পুঁজি থাকা মানুষও কাজের সন্ধানে প্রদেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। কেপির ব্যবসার বড় অংশ আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যনির্ভর হওয়ায় আফগান সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

তিনি বলেন, লাহোর ও করাচির বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো অবস্থায় পেশোয়ারের বাজার নেই। এ অবস্থায় আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ হওয়া কেপির মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

মরিয়ম নওয়াজের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কেপিতে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতাদেরও এর বিরোধিতা করার আহ্বান জানান আসাদ কায়সার। তিনি বলেন, প্রদেশের মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা তাঁদের দায়িত্ব।

পিএমএল-এনের প্রাদেশিক নেতৃত্ব মন্তব্যটির নিন্দা না করলে কেপির মানুষ রাজনৈতিকভাবে তাঁদের বয়কট করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, যারা কেপির মানুষের আত্মত্যাগ ও দুর্ভোগকে উপহাস করে, তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে।

দেশে সংবিধান, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আসাদ কায়সার। তিনি দাবি করেন, পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খান, তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবি এবং দলের অন্য নেতা-কর্মীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন।

ইমরান খান ও পিটিআইয়ের অন্য নেতাদের দীর্ঘদিনের কারাবাসকে চলমান রাজনৈতিক দমন-পীড়নের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ইমরান খান, বুশরা বিবি এবং সব রাজনৈতিক বন্দীর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন আসাদ কায়সার। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের লং মার্চকে শুধু পিটিআইয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব, আইনের শাসন, প্রকৃত গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার এবং রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

আসাদ কায়সার বলেন, কেপির মানুষ ইমরান খানের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে এবং ২৭ সেপ্টেম্বর তারা নিজেদের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক শক্তির প্রকাশ ঘটাবে।
সূত্র: ডন